• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

সৈয়দপুর স্টেশনের রেলপথের যন্ত্রাংশ উধাও: দুই শতাধিক কাঠের স্লিপার নষ্ট

সিসি নিউজ।। অপরিকল্পিত ভাবে পণ্য খালাসের কারণে নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনের লেক লাইনের যন্ত্রাংশ উধাও হয়েছে। কাঠের স্লিপার ভেঙ্গে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একাধিক লুপ লাইন। বর্তমানে ঝুঁকি নিয়ে পণ্য বোঝাই ওয়াগনগুলো ওইসব লাইনে নেওয়া হচ্ছে। এতে যে কোন সময়ে ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার ও গুডস হ্যান্ডেলিংয়ের দায়িত্বে থাকা ট্যান্ডেলের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ রেলওয়ে প্রকৌশলীর।

সৈয়দপুর রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপ সহপ্রকৌশলী সুলতান মৃধা জানান, স্টেশনের ৫ নম্বর লুপ লাইনটি পাথর আনলোড ও ভেকু ব্যবহার করায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও পাথর আনলোডে ভেকু ব্যবহার করায় লুপ লাইনের প্রায় দেড় শতাধিক কাঠের স্লিপারের দুই পাশের বর্ধিতাংশ ভেঙ্গে গিয়েছে। এতে লুপ লাইনটিতে ওয়াগন প্রবেশের অনুপযোগী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত চিঠি দিয়ে সৈয়দপুর স্টেশন মাস্টারকে অবগত করা হলেও তিনি ঝুঁকি নিয়ে পাথরের ওয়াগন ওই লুপ লাইনে প্রবেশ করাচ্ছেন বলে জানান তিনি।
প্রকৌশলী সুলতান মৃধা আরো জানান, ভেকু দিয়ে পাথর আনলোডের কারণে লুপ লাইনের পাশে লেক লাইনটি অপূরণীয় ক্ষতি সাধন হয়েছে। ইতিমধ্যে ওই লাইনের প্রায় ১০০ ফুটের মধ্যে কোন টানা রড ও ডিউ ব্লকের অস্তিত্ব নেই। এতে লেক লাইনের দুটি রেলপাত অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। যে কোন সময়ে চুরি হয়ে যেতে পারে রেলপাত দুটি। এ বিষয়ে স্টেশন মাস্টারকে পরপর ৮বার চিঠি পাঠিয়ে কোন জবাব পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, চিলাহাটি-হলদিবাড়ী রেলপথ চালু হওয়ায় বাংলাদেশের আমদানিকারকরা এই পথে পাথর আমদানি করছেন। পাথরের ওয়াগনগুলো নীলফামারীর চিলাহাটি হয়ে সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনে এনে তা আনলোড করা হয়। ইতিমধ্যে সহস্রাধিক ওয়াগন থেকে ভারতীয় পাথর আনলোড করা হয়েছে এই স্টেশনে। কিন্তু অপরিকল্পিত ভাবে ও অদক্ষ শ্রমিকের মাধ্যমে দিন-রাত পাথর আনলোড করায় রেললাইনের (ট্রাক) ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাথরগুলো রেলপথের ওপর ফেলে দেওয়ার পর আমদানিকারকেরা ভেকু মেশিন দিয়ে তা পণ্যবাহী ট্রাকে লোড করছেন। এতে রেলপথের দু’পাশের মাটিসহ কাঠের স্লিপার ও রেল পাতের যথেষ্ট ক্ষতিসাধন হয়েছে। চুরি হয়ে গেছে অর্ধ শতাধিক টানা রড ও ডিউ ব্লক।
সৈয়দপুর স্টেশনের পণ্যবাহী ট্রেনের মালামাল আনলোডের শ্রমিকদের সর্দার আফতাব আলম জানান, নির্দিষ্ট সময়ে ওয়াগনের মালামাল খালাস করতে চুক্তি ভিত্তিক অতিরিক্ত শ্রমিক নিয়োগের মাধ্যমে দিনরাত কাজ করতে হয়। এতে রেলের ট্রাকে পাথর তো পড়বেই। ওয়াগন খালি করা তাঁদের কাজ। রেলের ক্ষতি তাঁরা করছেন না। রেলের যন্ত্রাংশ চুরির বিষয়টি তারা জানেন না বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনের হাবিলদার মোহাম্মদ এরশাদ জানান, এ স্টেশনে ৭ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন, যা যথেষ্ট নহে। এদিকে শ্রমিকরা অবৈধ ভাবে রাতের বেলায় ওয়াগন থেকে মালামাল খালাস করছে স্টেশন মাস্টারের নির্দেশে। তিনি জানান, সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার ও গুডস্ ক্লাককে বারবার বলা সত্ত্বেও মালামাল ভর্তি ওয়াগনের হিসেব বা ছাড়পত্র নিরাপত্তা বাহিনীকে দেয়া হচ্ছে না।
সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার মো. শওকত আলী জানান, লেক লাইনটি প্রায় ২৫ বছর ধরে মেরামত করা হয়নি। তাই এ লাইনে কোন মালামাল খালাস করা হয়না। ফলে রেলের যন্ত্রাংশ বা রেলপাতের ক্ষতিগ্রস্তের বিষয়ে প্রকৌশলীর অভিযোগটি সত্য নহে। এছাড়া চলাচলের অনুপযোগী লুপ লাইনটিকে মাটি ও ইটের টুকরো দিয়ে উপযোগী হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। তাই ওই রেলপথে পণ্যবাহী ট্রেন প্রবেশ করানো নিয়ে কোন সমস্যা নেই। তিনি আরো বলেন, খাদ্যপন্যের ওয়াগন চুরি হতে পারে- এ কারনে রাতের বেলায় খালাস করা হয়না কিন্তু পাথরের ওয়াগন খালাসে কোন বাধা নেই। বিষয়টি উর্ধতণ কর্তৃপক্ষের নির্দেশে করা হয় বলে তিনি জানান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ